Top 10 Leading Run-Scorers in Bangladesh ODI History

Top 10 Leading Run-Scorers

বাংলাদেশ ক্রিকেট গত দুই দশকে ওয়ানডে আন্তর্জাতিক (ODI) ক্রিকেটে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পরাশক্তি পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আগমনী বার্তা দেওয়া দলটি আজ ওয়ানডে ফরম্যাটের অন্যতম সমীহ জাগানো শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময়ের ‘মিনোজ’ বা আন্ডারডগ খ্যাত বাংলাদেশ দল আজ যেকোনো বড় দলকে তাদের নিজেদের মাটিতে তো বটেই, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেও অনায়াসে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই গৌরবময় ও বৈপ্লবিক উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় এবং অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করেছে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। বছরের পর বছর ধরে বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ব্যাটার নিজেদের রক্ত, ঘাম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ক্রিজে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের বিশ্বসেরা বোলারদের শাসন করে তারা শুধু ম্যাচই জেতাননি, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একজন ক্রিকেটপ্রেমী কিংবা পরিসংখ্যানবিদ হিসেবে আপনার মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগতে পারে—ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে রানের পাহাড়ে সবার উপরে কে আছেন? কিংবা বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় কার অবস্থান কোথায়? আজকের এই দীর্ঘ ও তথ্যবহুল আর্টিকেলে আমরা উন্মোচন করতে যাচ্ছি Top 10 Leading Run-Scorers-র পুরো তালিকাটি। এই কাউন্টডাউনটি আমরা শুরু করব ১০ নম্বর স্থান থেকে এবং ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাব ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নম্বর রান-সংগ্রাহকের দিকে।

Table of Contents

List of Bangladesh’s Top 10 ODI Run-Scorers

১০. Habibul Bashar – দ্য ফাউন্ডেশন বিল্ডার (২,১৬৮ রান)

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং দূরদর্শী অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। যখন বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছিল, তখন দলের ব্যাটিং লাইনআপের মূল স্তম্ভ ছিলেন তিনি। ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি ১১১টি ম্যাচ খেলে ২,১৬৮ রান সংগ্রহ করেন। ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ৭৮ রান।

যদিও হাবিবুল বাশারকে মূলত টেস্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হতো, তবে তৎকালীন ওয়ানডে ক্রিকেটে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় রোধে তিনি ছিলেন প্রধান ভরসা। তাঁর অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ দল ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বক্রিকেটে হইচই ফেলে দিয়েছিল। দলের কঠিন সময়ে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। ক্রিকেটের শুরুর সেই কঠিন দিনগুলোতে তাঁর এই অনবদ্য অবদানের কারণে তিনি আজও Bangladesh’s Top 10 Leading Run-Scorers এর এই এলিট ক্লাবের এক অন্যতম সম্মানিত সদস্য।

Profile FeatureStatistics
Career Span1995–2007
Matches Played111
Total Runs2,168
Highest Score78
Batting StyleRight-handed Batsman

০৯. Shahriar Nafees – ক্লাসিক বাঁহাতি ওপেনার (২,২০১ রান)

২০০৬ সালের দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক ক্লাসিক এবং দৃষ্টিনন্দন বাঁহাতি ওপেনারের আগমন ঘটেছিল, যার নাম শাহরিয়ার নাফীস। তাঁর চমৎকার কভার ড্রাইভ এবং লফটেড শটগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করত। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, আর তাতেই ওয়ানডে ফরম্যাটে ৪টি সেঞ্চুরি ও ১৩টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ মোট ২,২০১ রান সংগ্রহ করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ১২৩* রান, যা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এসেছিল।

২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁর খেলা অপরাজিত সেঞ্চুরির ইনিংসটি এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাসিক ইনিংস হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্যারিয়ারটা খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও, রান করার চমৎকার গড় ও স্ট্রাইক রেটের কারণে তিনি দ্রুততম সময়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। এই প্রতিভাবান ওপেনার অত্যন্ত যোগ্যতার সাথেই ওয়ানডে ফরম্যাটে Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় নবম স্থানটি নিজের করে রেখেছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2006–2011
Matches Played75
Total Runs2,201
Highest Score123*
Batting StyleLeft-handed Opening Batsman

০৮. Soumya Sarkar – ড্যাশিং টপ-অর্ডার ব্যাটার (২,৩৬৪ রান)

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং একই সাথে মারকুটে ঘরানার ব্যাটার সৌম্য সরকার। ২০১৪ সালে অভিষেকের পর থেকেই তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ পাওয়ার-হিটিং এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলীর কারণে ক্রিকেট মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ৮১টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ৩টি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি ও ১১টি হাফ-সেঞ্চুরির সাহায্যে ২,৩৬৪ রান সংগ্রহ করেছেন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউই বোলারদের তুলোধুনো করে খেলা ১৬৯ রানের ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা পারফরম্যান্স।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে এবং পরবর্তীতে ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে সৌম্য সরকারের টপ-অর্ডার ব্যাটিং এক বিশাল ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম ২,০০০ ওয়ানডে রান করার কীর্তিও গড়েছিলেন। অফ-ফর্মে থাকার কারণে প্রায়ই দল থেকে বাদ পড়লেও, যখনই তিনি ফর্মে থাকেন, প্রতিপক্ষের যেকোনো বোলিং লাইনআপকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। এই ড্যাশিং ওপেনার বর্তমানে Bangladesh’s Top 10 Leading Run-Scorers চার্টের অষ্টম স্থানে অবস্থান করছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2014–2026
Matches Played81
Total Runs2,364
Highest Score169
Batting StyleLeft-handed Batsman / Part-time Medium Pacer

০৭. Imrul Kayes – নির্ভরযোগ্য ও লড়াকু ওপেনার (২,৪৩৪ রান)

তামিম ইকবালের সাথে ওয়ানডে ক্রিকেটে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত নাম ইমরুল কায়েস। ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের হয়ে ৭৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। এই সময়ের মধ্যে ৪টি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং ১৫টি হাফ-সেঞ্চুরির ওপর ভর করে তিনি মোট ২,৪৩৪ রান সংগ্রহ করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা ১৪৪ রানের লড়াকু ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

ইমরুল কায়েসের ক্যারিয়ার ছিল উত্থান-পতনে ভরা। দলে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও, যখনই ওপেনিং পজিশনে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে, তিনি দলের হাল ধরেছেন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে তাঁর ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স কিংবা ঘরের মাঠে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তাঁর ধৈর্যশীল ব্যাটিং সত্যিই প্রশংসনীয়। চাপের মুখে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় সপ্তম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2008–2018
Matches Played78
Total Runs2,434
Highest Score144
Batting StyleLeft-handed Opening Batsman

০৬. Litton Das – আধুনিক যুগের স্টাইলিশ মাস্টারক্লাস (২,৭৮৩ রান)

বর্তমান যুগের বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম টেকনিক্যালি নিখুঁত এবং চোখে শান্তি দেওয়া ব্যাটার লিটন কুমার দাস। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া লিটন তাঁর নান্দনিক কভার ড্রাইভ, রিল্যাক্সড পুল শট এবং টাইমিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এ পর্যন্ত ১০১টি ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ৫টি সেঞ্চুরি ও ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইক রেটসহ মোট ২,৭৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ১৭৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি ওয়ানডেতে যেকোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের করা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ড।

লিটন দাস শুধু দেশের মাটিতেই নয়, বিদেশের মাটিতেও এশিয়া কাপের ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে ভারতের শক্তিশালী বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ধারাবাহিকতার অভাবের কারণে মাঝে মাঝে সমালোচিত হলেও, লিটন যখন উইকেটে থিতু হন, তখন বোলারদের স্রেফ দর্শকের ভূমিকায় নামিয়ে আনেন। আধুনিক যুগের এই স্টাইলিশ ওপেনার খুব দ্রুতই ওয়ানডে ফরম্যাটে Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।

Profile FeatureStatistics
Career Span2015–2026
Matches Played101
Total Runs2,783
Highest Score176
Batting StyleRight-handed Opening Batsman / Wicketkeeper

০৫. Mohammad Ashraful – ক্রিকেটের প্রথম গ্লোবাল সুপারস্টার (৩,৪৬৮ রান)

মোহাম্মদ আশরাফুল—বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন একটি নাম যা শুনলেই এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে অন্যরকম এক আবেগ ও নস্টালজিয়ার সৃষ্টি হয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম প্রকৃত ‘পোস্টার বয়’ বা গ্লোবাল সুপারস্টার। ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৭৭টি ওয়ানডে ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ৩,৪৬৮ রান সংগ্রহ করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩টি সেঞ্চুরি ও ২০টি হাফ-সেঞ্চুরি করা আশরাফুলের ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংসটি ছিল ১০৯ রানের।

২০০৫ সালে কার্ডিফে অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি (১০৯), যার ওপর ভর করে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিল, তা কোনোদিন ভোলার নয়। এছাড়াও ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত ঝড়ো ইনিংসটি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছিল। যদিও নানা বিতর্ক এবং ধারাবাহিকতার অভাবে তাঁর ক্যারিয়ার অকালেই থমকে যায়, তবুও ওয়ানডে ক্রিকেটে জাদুকরী সব ইনিংস খেলে তিনি আজও Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকার ঠিক মাঝখানে অর্থাৎ ৫ম স্থানে সগৌরবে অবস্থান করছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2001–2013
Matches Played177
Total Runs3,468
Highest Score109
Batting StyleRight-handed Batsman

০৪. Mahmudullah Riyad – ক্রাইসিস ম্যান ও সাইলেন্ট কিলার (৫,৬৮৯ রান)

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ‘ক্রাইসিস ম্যান’ বা বিপদের বন্ধু বলা হয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। যখনই দলের টপ-অর্ডার হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে, কিংবা ম্যাচের শেষ ওভারে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছে দল, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ২৩৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। মিডল এবং লোয়ার-মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেও তিনি দেশের হয়ে ৫,৬৮৯ রান সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৪টি সেঞ্চুরি ও ২৭টি হাফ-সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ১২৮* রান।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হাইলাইট ছিল ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েন। তাঁর ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিং দক্ষতার কারণে তাঁকে ক্রিকেট বিশ্বে ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামে ডাকা হয়। শান্ত ও মৃদুভাষী এই ক্রিকেটার নীরব পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ওয়ানডে ফরম্যাটে Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় শক্ত চতুর্থ স্থানটি দখল করে রেখেছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2007–2025
Matches Played239
Total Runs5,689
Highest Score128*
Batting StyleRight-handed Middle-order Batsman / Off-spinner

০৩. Shakib Al Hasan – বিশ্বসেরা কিংবদন্তি অলরাউন্ডার (৭,৫৭০ রান)

সাকিব আল হাসান—শুধু বাংলাদেশেরই নন, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সর্বকালের অন্যতম মহান অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ২০০۶ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪৭টি ওয়ানডে ম্যাচে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন সাকিব। বোলারদের ঘুম কেড়ে নিয়ে তিনি ব্যাটিংয়ে একাই করেছেন ৭,৫৭০ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৯টি চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি এবং ৫৬টি হাফ-সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ফরম্যাটে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ১৩৪* রান।

সাকিবের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালী অধ্যায় ছিল ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ রেকর্ড ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১টি উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭ হাজার রান এবং ৩শ’র বেশি উইকেটের ডাবল ছোঁয়া একমাত্র ক্রিকেটার তিনিই। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও তিনি যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন, তার প্রমাণ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় ৩ নম্বর স্থানটি নিজের করে রেখেছেন এই কিংবদন্তি।

Profile FeatureStatistics
Career Span2006–2023
Matches Played247
Total Runs7,570
Highest Score134*
Batting StyleLeft-handed Middle-order Batsman / Left-arm Spinner

০২. Mushfiqur Rahim – দলের মূল ভরসা মিস্টার ডিপেন্ডেবল (৭,৭৯৫ রান)

২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দেয়াল এবং অতন্দ্র প্রহরী মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং ডেডিকেশনের জন্য সতীর্থরা তাঁকে ভালোবেসে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ নামে ডাকেন। দেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ২৭৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি তাঁরই ঝুলিতে। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যাট হাতে তিনি করেছেন ৭,৭৯৫ রান। ওয়ানডেতে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৭টি হাফ-সেঞ্চুরি করা মুশফিকের ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংসটি ছিল ১৪৪ রানের।

২০১৮ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাজরের ইনজুরি ও তীব্র গরম সহ্য করে তাঁর খেলা ১৪৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ইনিংস হিসেবে অমর হয়ে থাকবে। তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র উইকেটকিপার-ব্যাটার তিনি। চাপের মুখে কীভাবে স্নায়ু ধরে রেখে ইনিংসের হাল ধরতে হয়, তা মুশফিকুর রহিমের চেয়ে ভালো আর কেউ জানেন না। ক্লান্তিহীন এই রান-সংগ্রাহক Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় সগৌরবে দ্বিতীয় স্থানটি অধিকার করে আছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2006–2025
Matches Played274
Total Runs7,795
Highest Score144
Batting StyleRight-handed Batsman / Wicketkeeper

০১. Tamim Iqbal – দেশসেরা সর্বকালের সেরা ওপেনার (৮,৩৫৭ রান)

এখন সময় এসেছে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের রাজসিংহাসনে বসা রান রাজার নাম ঘোষণা করার। তিনি আর কেউ নন—বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এবং সফলতম ওপেনিং ব্যাটার তামিম ইকবাল খান। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আর এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তিনি করেছেন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮,৩৫৭ রান। ওয়ানডেতে ১৪টি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি (যা যেকোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের জন্য সর্বোচ্চ) এবং ৫৬টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ১৫৮ রান, যা তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন।

২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের জহির খানকে ক্রিজ থেকে এগিয়ে এসে মারা সেই ঐতিহাসিক ছক্কা দিয়েই তামিম বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে একজন পরিণত এবং আক্রমণাত্মক থেকে ক্লাসিক ডঙ্কর ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তামিম ইকবালই প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার যিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে ৫ হাজার, ৬ হাজার, ৭ হাজার এবং সর্বশেষে ৮ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার এক অনন্য ও রাজকীয় কীর্তি গড়েছেন। অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দলকে একাধিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতিয়েছেন। দেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও সর্বোচ্চ রানের পাহাড় গড়ে তিনি আজ Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকার সবার শীর্ষে অর্থাৎ এক নম্বর স্থানটি নিজের সাম্রাজ্য বানিয়ে রেখেছেন।

Profile FeatureStatistics
Career Span2007–2023
Matches Played243
Total Runs8,357
Highest Score158
Batting StyleLeft-handed Opening Batsman

Conclusion

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটের এই শীর্ষ ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এ দেশের ক্রিকেট আজ যে অবস্থানে এসেছে, তার পেছনে রয়েছে জেনারেশনাল ট্যালেন্টদের কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিক অবদান। বিশেষ করে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা, যাঁদের একসাথে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বলা হতো (মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ), তাঁরা দেশের ব্যাটিংয়ের রূপরেখাই বদলে দিয়েছেন।

তবে সময়ের নিয়মে এই কিংবদন্তিরা একে একে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন বা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন। এখন দেখার বিষয় হলো, আধুনিক যুগের লিটন দাস বা তরুণ ব্যাটারদের মধ্যে থেকে কেউ কি তামিম, মুশফিক বা সাকিবের এই পর্বতসম রানের রেকর্ডগুলো ভেঙে এই Bangladesh Top 10 leading run scorers তালিকায় নতুন কোনো ইতিহাস বা নতুন কোনো শীর্ষস্থান দখল করতে পারেন কিনা!

আপনার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ ব্যাটারদের মধ্যে কার পক্ষে তামিম ইকবালের ৮,৩৫৭ রানের রেকর্ডটি ভাঙা সম্ভব? আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

FAQs

১. ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান কার?

উত্তর: ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান ওপেনার তামিম ইকবালের। তিনি ২৪৩টি ওয়ানডে ম্যাচে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৫৬টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ মোট ৮,৩৫৭ রান সংগ্রহ করেছেন।

২. ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর কত?

উত্তর: ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ১৭৬ রান। এই অনন্য রেকর্ডটির মালিক হলেন লিটন কুমার দাস, যা তিনি ২০২০ সালে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন।

৩. বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি কার?

উত্তর: বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরির সংখ্যা মোট ১৪টি। দ্বিতীয় স্থানে আছেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান (উভয়েই ৯টি করে সেঞ্চুরি)।

৪. প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৮,০০০ রান কে পূর্ণ করেন?

উত্তর: তামিম ইকবাল প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮,০০০ রানের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন।

৫. ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম ২,০০০ রান করার রেকর্ড কার?

উত্তর: ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ২,০০০ রান করার কীর্তি গড়েছেন ড্যাশিং ওপেনার সৌম্য সরকার।

৬. বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ কাকে বলা হয় এবং তালিকায় তাঁর অবস্থান কত?

উত্তর: উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে বাংলাদেশ দলের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ বলা হয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহকের তালিকায় ৭,৭৯৫ রান নিয়ে তিনি দ্বিতীয় (২য়) স্থানে আছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top