
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল (ODI) ফরম্যাটের বিবর্তনের ইতিহাস ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম এক রোমাঞ্চকর গল্প। আশির দশকের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করে আজকের এই বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ত্যাগ, সাধনা এবং দুর্দান্ত কিছু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের গল্প। ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাটে, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একটি বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেওয়ার মূল দায়িত্ব থাকে টপ অর্ডার বা ওপেনিং জুটির ওপর। নতুন বলের সুইং, পেসারের ধার এবং পাওয়ারপ্লে-র ফিল্ড রেস্ট্রিকশনের সুবিধা নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটি যারা করেছেন, তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
গত আড়াই দশকে বাংলাদেশ দল একাধিক প্রতিভাবান ওপেনারকে বিশ্ব ক্রিকেটে উন্মোচিত করেছে। কেউ ছিলেন রক্ষণাত্মক ঘরানার নির্ভরযোগ্য দেয়াল, কেউ বা আবার আধুনিক ক্রিকেটের দাবি মেনে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া ড্যাশিং স্ট্রোক-মেকার। আজকের এই বিস্তারিত ও মেগা আর্টিকেলে আমরা পরিসংখ্যান, ম্যাচের প্রভাব, কঠিন পরিস্থিতিতে দলের জয়ে অবদান এবং দীর্ঘমেয়াদী লিগ্যাসি বিবেচনা করে কাউন্টডাউন শুরু করব—কারা জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের Greatest Bangladeshi ODI Openers বা সর্বকালের সেরা ওয়ানডে ওপেনারদের তালিকায়।
Table of Contents
List of 10 Greatest Bangladeshi ODI Openers of All Time
১০. Nafees Iqbal – টেকনিক্যালি নিখুঁত ফাউন্ডেশন বিল্ডার

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের বড় সন্তান এবং তামিম ইকবালের বড় ভাই নাফিস ইকবাল ছিলেন ২০০০-এর দশকের মাঝের দিকে বাংলাদেশের অন্যতম টেকনিক্যালি নিখুঁত ও সাউন্ড ওপেনার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ না হলেও, বাংলাদেশ ক্রিকেটের রূপান্তরের সেই कठिन সময়ে দলের ভিত গড়ে দেওয়ার কারণে তাকে শ্রদ্ধার সাথে Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের তালিকায় স্মরণ করা হয়।
ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের নায়ক:
বিশেষ করে ২০০৪-০৫ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয় এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জয়ে টপ অর্ডারে তার অবদান ছিল মনে রাখার মতো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার খেলা ১২১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটি ক্রিকেট ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দলের বন্ধুদের মাঝে এক নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল। ইনজুরি এবং ফর্মের কারণে দ্রুত ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলেও ওপেনিং পজিশনে তার ক্লাসিক্যাল টেকনিকের কদর সবসময় থাকবে।
Nafees Iqbal ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 16 / 16 |
| Runs Scored | 309 |
| Highest Score (HS) | 58 vs Zimbabwe |
| Batting Average | 19.31 |
| Strike Rate (SR) | 55.47 |
| Centuries (100s) | 0 |
| Half-Centuries (50s) | 2 |
৯. Tanzid Hasan – ভবিষ্যতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও তরুণ তুর্কি

২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই তারকা বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে বিবেচনা করা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ২০২৩ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকেই তিনি তার সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও ব্যাকফুট পাঞ্চের মাধ্যমে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেকে Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আধুনিক ক্রিকেটের অ্যাপ্রোচ:
Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম এমন একজন ব্যাটার, যিনি আধুনিক ক্রিকেটের ডিমান্ড বোঝেন। নতুন বলের ফেস করতে তিনি ভয় পান না এবং তার কাট ও লফটেড শট খেলার ক্ষমতা দারুণ। ডমেস্টিক ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। ওপেনিং পজিশনে তামিম ইকবালের দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সব যোগ্যতা তার রয়েছে।
Tanzid Hasan ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 21 / 21 |
| Runs Scored | 512 |
| Highest Score (HS) | 84 vs Sri Lanka |
| Batting Average | 24.38 |
| Strike Rate (SR) | 89.04 |
| Centuries (100s) | 0 |
| Half-Centuries (50s) | 4 |
ALSO READ: Top 10 Best Bangladeshi T20 Batters of All Time
৮. Mehrab Hossain Opi – প্রথম সেঞ্চুরির ইতিহাস স্রষ্টা

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের খেরোখাতায় মেহরাব হোসেন অপির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যখন বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য লড়াই করছিল, তখন তিনি ওপেনিংয়ে আশার আলো দেখিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ঐতিহাসিক গোড়াপত্তন করার কারণে ঐতিহাসিকভাবে তিনি অন্যতম Greatest Bangladeshi ODI Openers।
ঐতিহাসিক সেই সেঞ্চুরি:
১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ১০১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন অপি। এর মাধ্যমে তিনি হয়ে যান ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান (First ODI Centurion of Bangladesh)। ১৯৯৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক পাকিস্তান জয়ের ম্যাচেও তার ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
Mehrab Hossain ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 18 / 18 |
| Runs Scored | 449 |
| Highest Score (HS) | 101 vs Zimbabwe |
| Batting Average | 24.94 |
| Strike Rate (SR) | 58.08 |
| Centuries (100s) | 1 |
| Half-Centuries (50s) | 2 |
৭. Anamul Haque – সহজাত প্রতিভাবান স্ট্রোক-মেকার

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন এনামুল হক বিজয়। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেই এক দুর্দান্ত শতরান (১২০) করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন এবং নিজের প্রতিভার জোরে Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
ব্যাটিংয়ের শক্তি ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কিংবদন্তি:
Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের মধ্যে বিজয় মূলত ফ্লিক, অন-ড্রাইভ এবং চমৎকার পুল শটের জন্য পরিচিত। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়া এই ডানহাতি ব্যাটার পাওয়ারপ্লে-তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে ভালোবাসেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে ১০০০-এর বেশি রান করার ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে তার। জাতীয় দলে তার ধারাবাহিকতার অভাব এবং ইনজুরির কারণে মাঝেমধ্যে জায়গা হারালেও ওপেনিং পজিশনে তার বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত।
Anamul Haque ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 52 / 49 |
| Runs Scored | 1350 |
| Highest Score (HS) | 120 vs West Indies |
| Batting Average | 28.72 |
| Strike Rate (SR) | 72.19 |
| Centuries (100s) | 3 |
| Half-Centuries (50s) | 5 |
৬. Javed Omar – দ্য রেজিস্ট্যান্ট দেয়াল

যখন ক্রিকেট বিশ্বে ওয়ানডে মানেই চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা খেলা শুরু হয়েছে, তখন জাভেদ ওমর বেলিম গুল্লু ছিলেন বাংলাদেশ দলের ইনিংসের নোঙর বা Anchor। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের কঠিন দিনগুলোতে নতুন বলের ধার সামলানোর অতুলনীয় দক্ষতার কারণে তাকে অন্যতম Greatest Bangladeshi ODI Openers হিসেবে সম্মান করা হয়।
উইকেটে টিকে থাকার অনবদ্য জেদ:
Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের মধ্যে জাভেদ ওমর তার অসাধারণ ডিফেন্স এবং উইকেটে কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর, যেখানে এক প্রান্তে দ্রুত উইকেট পড়ে যেত। সেখানে জাভেদ ওমর একপ্রান্ত আগলে রেখে নতুন বলের উজ্জ্বলতা নষ্ট করতেন, যাতে মিডল অর্ডারের জন্য ব্যাটিং সহজ হয়।
Javed Omar ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 59 / 59 |
| Runs Scored | 1312 |
| Highest Score (HS) | 85* vs Zimbabwe |
| Batting Average | 23.85 |
| Strike Rate (SR) | 51.57 |
| Centuries (100s) | 0 |
| Half-Centuries (50s) | 10 |
৫. Shahriar Nafees – বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের প্রথম বৈশ্বিক সুপারস্টার

আধুনিক যুগের আগে, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ যখন বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত লড়াই করতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের ক্লাসিক্যাল রূপ এবং ভরসা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর থেকে তিনি দলের টপ অর্ডারকে একাই টেনেছেন এবং তাকে সেই সময়কার ওয়ানডে ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে Greatest Bangladeshi ODI Openers-এর একজন ধরা হতো।
টেকনিক ও ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং:
शाहరిয়ার নাফীসের ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি ছিল তার নিখুঁত টেকনিক এবং সোজা ব্যাটে খেলার ক্ষমতা। ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ও বিশ্বসেরা বোলিং লাইনের বিরুদ্ধে জয়পুরে তার খেলা অপরাজিত ১২৩* রানের ইনিংসটি বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে ১০০০ ওয়ানডে রান করা প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটারও ছিলেন তিনি।
Shahriar Nafees ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 75 / 75 |
| Runs Scored | 2201 |
| Highest Score (HS) | 123* vs Australia |
| Batting Average | 31.44 |
| Strike Rate (SR) | 69.10 |
| Centuries (100s) | 4 |
| Half-Centuries (50s) | 13 |
৪. Imrul Kayes – নির্ভরযোগ্য ও লড়াকু কামব্যাক কিং

ইমরুল কায়েস বাংলাদেশ দলের অন্যতম একজন ক্লাসিক্যাল এবং লড়াকু বামহাতি ওপেনার। কঠিন ও বৈরী পরিস্থিতিতে দলের ইনিংস মেরামত করার অসামান্য দক্ষতার কারণে ক্রিকেট সমর্থকরা তাকে অন্যতম Greatest Bangladeshi ODI Openers হিসেবে গণ্য করেন। ২০০৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন তামিম ইকবালের সাথে অত্যন্ত বিশ্বস্ত এক উদ্বোধনী জুটি গড়ে তুলেছিলেন।
দলের প্রতি অবদান ও লড়াকু মানসিকতা:
ইমরুল কায়েসের ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন এসেছে, কিন্তু প্রতিবারই ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়ে জাতীয় দলে দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে তিনি যথাক্রমে ১৪৪, ৯০ এবং ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন। পুরো সিরিজে তিনি মোট ৩৪৯ রান সংগ্রহ করেন, যা ৩ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড (Second Most Runs in a 3-match ODI Series)।
Imrul Kayes ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 78 / 78 |
| Runs Scored | 2434 |
| Highest Score (HS) | 144 vs Zimbabwe |
| Batting Average | 32.02 |
| Strike Rate (SR) | 70.00 |
| Centuries (100s) | 4 |
| Half-Centuries (50s) | 16 |
৩. Soumya Sarkar – ভয়ডরহীন ড্যাশিং এবং ইমপ্যাক্টফুল ওপেনার

সৌম্য সরকার বাংলাদেশ দলের একজন প্রতিভাবান এবং আক্রমণাত্মক বামহাতি ওপেনিং ব্যাটার। যখন তিনি নিজের ছنده থাকেন, তখন তাকে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী এবং Greatest Bangladeshi ODI Openers হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার পর ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে দলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পেছনে তার দ্রুতগতির কেমিও ইনিংসগুলো বড় ভূমিকা রেখেছিল।
ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স:
সৌম্য সরকার তার ভয়ডরহীন ব্যাটিং স্টাইল বা Fearless Batting Style এবং চমত্কার স্কয়ার কাট ও পুল শটের জন্য পরিচিত। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত আসে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, যখন তিনি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের শক্তিশালী বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ১৬৯ রানের একটি অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন। এটি এশিয়ার বাইরের যেকোনো দেশে বা Away Conditions-এ কোনো বাংলাদেশী ব্যাটারের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোরের রেকর্ড।
Soumya Sarkar ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 85 / 80 |
| Runs Scored | 2412 |
| Highest Score (HS) | 169 vs New Zealand |
| Batting Average | 31.73 |
| Strike Rate (SR) | 96.88 |
| Centuries (100s) | 3 |
| Half-Centuries (50s) | 14 |
২. Litton Das – ক্লাসিক্যাল এবং স্টাইলিশ মাস্টারক্লাস

বর্তমান যুগের অন্যতম নান্দনিক এবং টেকনিক্যালি নিখুঁত ব্যাটার হলেন লিটন কুমার দাস। আধুনিক যুগে বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের সামনে যারা চোখের পলকে বাউন্ডারি মেরে গ্যালারি মেলাতে পারেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এবং Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের একজন হিসেবে তিনি নিজেকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৫ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া লিটনের টাইমিং, লেট কাট এবং নিখুঁত কভার ড্রাইভ এককথায় বিশ্বমানের।
বিশেষ অর্জন:
২০২০ সালে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের এক তাণ্ডবীলীলা চালান। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে যেকোনো বাংলাদেশী ব্যাটারের পক্ষে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ওয়ানডে স্কোরের রেকর্ড (Highest Individual ODI Score)। একই ম্যাচে তামিম ইকবালের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ২৯২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন, যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি।
Litton Das ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 113 / 111 |
| Runs Scored | 2895 |
| Highest Score (HS) | 176 vs Zimbabwe |
| Batting Average | 29.54 |
| Strike Rate (SR) | 86.12 |
| Centuries (100s) | 5 |
| Half-Centuries (50s) | 14 |
১. Tamim Iqbal – দ্য আনডিস্পিউটেড কিং ও রান মেশিন

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের কথা বলতে গেলে সর্বাগ্রে এবং এককভাবে যার নাম আসে, তিনি হলেন তামিম ইকবাল খান। পরিসংখ্যান, ধারাবাহিকতা, ম্যাচ জয়ী ইনিংস এবং টেকনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে তাকে নির্দ্বিধায় Greatest Bangladeshi ODI Openers-দের তালিকায় সবার উপরে রাখা হয়। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে প্রায় দেড় দশক তিনি দলের ব্যাটিং লাইন-আপের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন।
অনন্য রেকর্ডসমূহ:
তামিম ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৮,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি দেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ৫৬টি হাফ-সেঞ্চুরির মালিক। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে ১৫৮ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে মারকুটে খেললেও পরবর্তীতে একজন দায়িত্বশীল অ্যাঙ্কর ব্যাটার বা Anchor Batter হিসেবে ইনিংসের এক প্রান্ত আগলে রাখার দায়িত্ব নেন এবং বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
Tamim Iqbal ODI Career Stats:
| Statistical Category | Career Record |
| Matches / Innings | 243 / 240 |
| Runs Scored | 8357 |
| Highest Score (HS) | 158 vs Zimbabwe |
| Batting Average | 36.65 |
| Strike Rate (SR) | 78.54 |
| Centuries (100s) | 14 |
| Half-Centuries (50s) | 56 |
শেষ কথা:
বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটের এই দীর্ঘ ও গৌরবময় যাত্রার দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ওপেনিং পজিশনটি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই তালিকায় থাকা Greatest Bangladeshi ODI Openers-রা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রানই করেননি, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একটি সমীহ জাগানিয়া ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মূল ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছেন।
FAQs
১. ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার কে?
উত্তর: পরিসংখ্যান, সেঞ্চুরির সংখ্যা এবং ধারাবাহিকতার বিচারের তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal) ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী ওপেনার যিনি ওয়ানডেতে ৮,০০০ এর বেশি রান এবং ১৪টি সেঞ্চুরি করেছেন।
২. ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশী ওপেনারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর কত?
উত্তর: ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশী ওপেনারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হলো ১৭৬ রান। ২০২০ সালে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক ইনিংসটি খেলেন স্টাইলিশ ওপেনার লিটন কুমার দাস।
৩. ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি কে করেছিলেন?
উত্তর: ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন মেহরাব হোসেন অপি। ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকায় তিনি ১০১ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসটি খেলেছিলেন।
৪. এশিয়ার বাইরে (Away Conditions) ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশী ওপেনারের সর্বোচ্চ রান কত?
উত্তর: এশিয়ার বাইরে ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশী ওপেনারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৬৯ রান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে এই বিধ্বংসী ইনিংসটি খেলেন সৌম্য সরকার।
৫. ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০০ রান করার রেকর্ড কার?
উত্তর: ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০০ রান করার রেকর্ডটি সৌম্য সরকারের দখলে। তিনি মাত্র ৬৪ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
৬. ৩ ম্যাচের ওয়ানডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান কার?
উত্তর: ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ইমরুল কায়েস মোট ৩৪৯ রান (১৪৪, ৯০, ১১৫) করেছিলেন, যা বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসেও অন্যতম একটি রেকর্ড।
